Dhaka ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাপাহার থানায় ওসির দায়িত্ব হস্তান্তরে বিলম্ব, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় সেবাপ্রার্থীরা স্কুলে যাওয়ার পথে ভটভটির ধাক্কায় প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিয়ামের নিয়ামতপুরে বৃষ্টির আশায় ইসতিসকার নামাজ ও বিশেষ মোনাজাত সাপাহারে ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মা’দক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থী নির্বাচিত করবে -মোস্তাফিজুর রহমান এমপি সাপাহারে মাদক সেবনের অপরাধে ৪ জনের কারাদণ্ড মান্দায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত সাপাহারে অনুমোদনহীন ইটভাটায় ১ লক্ষ টাকা জরিমানা সাপাহারে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ নিয়ামতপুর উপজেলায় সমন্বিত পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

মান্দায় ভার্কের খাল পুনঃখনন প্রকল্পে পুকুর চুরির অভিযোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পানিসম্পদ উন্নয়ন ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে নওগাঁর মান্দা উপজেলায় শুরু হয়েছিল চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প। ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও চারটি খালের একটিও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল পুনঃখননের চেয়ে খালের মাটি বিক্রিতেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথাও পাড় নির্মাণ না করেই মাটি বিক্রি করে দেওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে প্রকল্পের মান ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চকসাবাই, চকের বিল ও ঘোনা এবং ভারশোঁ ইউনিয়নের বিল উথরাইল (পৈতা) খাল ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থানে খননকাজ অসম্পূর্ণ। কোথাও শুধু দুই পাশ কেটে মাটি ওপরে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও খালের নির্ধারিত গভীরতা ও প্রস্থ বজায় রাখা হয়নি। কয়েকটি স্থানে খালের পাড়ের কোনো অস্তিত্বই নেই। ইতোমধ্যে বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ অসমাপ্ত থাকা এবং মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান বাস্তবতার সঙ্গে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের অমিল স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের দাবি, খননের পরিমাণ, খননকৃত মাটির ব্যবহার, প্রকল্পের গুণগত মান এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। গত ২৮ এপ্রিল কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ জুন।
চকসাবাই খালে এক কিলোমিটার খননের কথা থাকলেও সরেজমিনে প্রায় অর্ধেক অংশে কাজের আলামত পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খনন শেষে পাড় নির্মাণ না করে সেই মাটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
চকসাবাই গ্রামের বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, ‘এক কিলোমিটার খননের কথা থাকলেও প্রায় অর্ধেক খনন করে মেশিন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খালের মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এখন পাড় না থাকায় চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘আমি নিজেই আট হাজার টাকার মাটি কিনেছি। অফিসের লোকজনই বিক্রি করেছেন। অনেকেই এভাবে মাটি কিনে বাড়ির জায়গা ভরাট করেছেন।’
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, খালের মাটি যেখানে পাড় নির্মাণে ব্যবহারের কথা, সেখানে তা ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে খালের পাশে চলাচলের পথও নষ্ট হয়েছে। বর্ষায় ভাঙন আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
ঘোনা খালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দায়সারাভাবে কাজ শেষ করে প্রকল্প সম্পন্ন দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। চকের বিল ও বিল উথরাইল (পৈতা) খালেও অল্প খনন করেই কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভার্কের মান্দা উপজেলা প্রকল্প সমন্বয়ক আবু রায়হান মাটি বিক্রি ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘চকসাবাই ও ঘোনা খালের কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টি ও সময়ের স্বল্পতার কারণে বাকি দুটি খালের কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। মাটি বিক্রির কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিল দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’#

Tag :

সাপাহার থানায় ওসির দায়িত্ব হস্তান্তরে বিলম্ব, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় সেবাপ্রার্থীরা

error: Content is protected !!

মান্দায় ভার্কের খাল পুনঃখনন প্রকল্পে পুকুর চুরির অভিযোগ

আপডেটের সময়: ১০:২৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পানিসম্পদ উন্নয়ন ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে নওগাঁর মান্দা উপজেলায় শুরু হয়েছিল চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প। ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও চারটি খালের একটিও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল পুনঃখননের চেয়ে খালের মাটি বিক্রিতেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথাও পাড় নির্মাণ না করেই মাটি বিক্রি করে দেওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে প্রকল্পের মান ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চকসাবাই, চকের বিল ও ঘোনা এবং ভারশোঁ ইউনিয়নের বিল উথরাইল (পৈতা) খাল ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থানে খননকাজ অসম্পূর্ণ। কোথাও শুধু দুই পাশ কেটে মাটি ওপরে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও খালের নির্ধারিত গভীরতা ও প্রস্থ বজায় রাখা হয়নি। কয়েকটি স্থানে খালের পাড়ের কোনো অস্তিত্বই নেই। ইতোমধ্যে বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ অসমাপ্ত থাকা এবং মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান বাস্তবতার সঙ্গে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের অমিল স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের দাবি, খননের পরিমাণ, খননকৃত মাটির ব্যবহার, প্রকল্পের গুণগত মান এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। গত ২৮ এপ্রিল কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ জুন।
চকসাবাই খালে এক কিলোমিটার খননের কথা থাকলেও সরেজমিনে প্রায় অর্ধেক অংশে কাজের আলামত পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খনন শেষে পাড় নির্মাণ না করে সেই মাটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
চকসাবাই গ্রামের বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, ‘এক কিলোমিটার খননের কথা থাকলেও প্রায় অর্ধেক খনন করে মেশিন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খালের মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এখন পাড় না থাকায় চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘আমি নিজেই আট হাজার টাকার মাটি কিনেছি। অফিসের লোকজনই বিক্রি করেছেন। অনেকেই এভাবে মাটি কিনে বাড়ির জায়গা ভরাট করেছেন।’
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, খালের মাটি যেখানে পাড় নির্মাণে ব্যবহারের কথা, সেখানে তা ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে খালের পাশে চলাচলের পথও নষ্ট হয়েছে। বর্ষায় ভাঙন আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
ঘোনা খালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দায়সারাভাবে কাজ শেষ করে প্রকল্প সম্পন্ন দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। চকের বিল ও বিল উথরাইল (পৈতা) খালেও অল্প খনন করেই কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভার্কের মান্দা উপজেলা প্রকল্প সমন্বয়ক আবু রায়হান মাটি বিক্রি ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘চকসাবাই ও ঘোনা খালের কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টি ও সময়ের স্বল্পতার কারণে বাকি দুটি খালের কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। মাটি বিক্রির কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিল দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’#