
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন ধান নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। অনাবৃষ্টির কারণে মাঠের আমন ধানের জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি কামনা করে ইসতিসকার নামাজ আদায় করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ইসতিসকার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। নামাজে ইমামতি করেন মাকলাহাট দারুল কুরআন ইসলামিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ শাইখ আব্দুর রহিম।
নামাজ শেষে দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তি, কৃষি ও কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা এবং মহান আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ, কৃষকের ফসল রক্ষা এবং প্রকৃতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নিয়ামতপুর উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমিতে বর্তমানে আমন ধানের চাষ হয়েছে। আমন ধানের জন্য এ সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক জমিতে ধানের গাছ প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছে না। ফলে ধানের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষকদের ভাষ্য, আমন মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টি না হলে জমিতে সেচ দিতে বাড়তি খরচ করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং কৃষকের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে অনাবৃষ্টির প্রভাব অনেক জমিতে পড়তে শুরু করেছে বলেও জানান তারা।
এ অবস্থায় দ্রুত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাই আল্লাহর রহমত কামনায় ইসতিসকার নামাজ আদায় করে বৃষ্টির জন্য বিশেষ দোয়া করেছেন তারা।
স্থানীয় মুসল্লিরা আশা প্রকাশ করেন, মহান আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করবেন এবং দ্রুত রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। এতে কৃষকের আমন ধানসহ অন্যান্য ফসল রক্ষা পাবে এবং দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টির অবসান ঘটবে।












